Announcements
বিশ্বদর্পণ এবার আপনার মোবাইলে ।। গুগল প্লে ষ্টোর থেকে Biswadarpan টাইপ করে বিশ্বদর্পণ অ্যাপ ডাউনলোড করুন । বিশ্বদর্পণ নিউজ পোর্টালের জন্য সাব এডিটর , রিপোর্টার ও মার্কেটিং এগজিকিউটিভ প্রয়োজন । সত্ত্বর ছবি ও বায়োডাটা মেল করুন- info@biswadarpan.com/official@biswadarpan.com ।। যে কোন খবর ও বিজ্ঞ্যাপনের জন্য যোগাযোগ করুন -98000 -51405 বিশ্বদর্পণ এবার আপানার মোবাইলে ।। গুগল প্লে ষ্টোর থেকে Biswadarpan টাইপ করে বিশ্বদর্পণ অ্যাপ ডাউনলোড করে ২৪x৭ আপডেট থাকুন ।। Biswadarpan এর দের জন্য নতুন update । সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও রবিবার নজর রাখুন সাহিত্যের পাতায় । শনিবার একগুচ্ছ কবিতা নিয়ে হাজির Biswadarpan । গল্প , ছোট গল্পের ভান্ডার নিয়ে রবিবাসরীয় Biswadarpan । ভোজন রসিকদের জন্য দারুন খবর । সপ্তাহের শেষে নিত্যনতুন রেসিপি Biswadarpan এ । আপনারাও পাঠাতে পারেন আপনার প্রিয় খাবারের রেসিপি । AVRO keyword এ টাইপ করুন , আর রেসিপির ছবি ও আপনার নাম স হ মেল করুন আমাদের mail id তে । MAIL ID- info@biswadarpan.com প্রতি মাসের শেষে বাছাই করা হবে আপনাদের পাঠানো রেসিপি । সেরা ২ রেসিপিকে দেওয়া হবে আকর্ষণীয় উপহার Biswadarpa এর পক্ষ থেকে । STAY TUNED BISWADARPAN . SUBSCRIBE OUR YOUTUBE CHANNEL - BISWADARPAN বিশ্বদর্পণ নিউজ পোর্টালের জন্য রাজ্য ব্যাপী সাংবাদিক/Stringer প্রয়োজন । আগ্রহীরা সত্বর ছবি ও বায়োডাটা আমাদের মেইল আই ডি-তে মেইল করুন । আমাদের মেইল আই ডি- info@biswadarpan.com উল্লেখ্যঃ- (পশ্চিম বর্ধমান , জামালপুর , বীরভুম , দক্ষিন ২৪ পরগনা , দক্ষিণ দিনাজপুর , মুর্শিদাবাদ , কলকাতা , পুরুলিয়া অগ্রগণ্য)
TRENDING NOW
Tuesday , Mar 26, 2019
সাহিত্য
February 16, 2018, 11:38am


".....বাংলা কবিতা/ বাংলা গুচ্ছকবিতা এমনকী বাংলায় শুয়েবসে লেখা কবিতাও/ আপনার পাঞ্জাবিতে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চেটে সাফ করে দেবে।/ আর এই যে আপনি,শিফন শাড়ি আর বিপজ্জনক স্ট্র্যাপ নিয়ে পাতা ওল্টাচ্ছেন,/ আপনার মৃণালভুজে পিছলে যাচ্ছে উঠতি কবির চোখ।/"
( কবিতা : গুজবে কান দেবেন,পৃষ্ঠা-৯)


"গুজবে কান দেবেন" কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কবি সুজিত দাস। প্রকাশক- শুধু বিঘে দুই।২০১৭তে প্রকাশিত একফর্মার এই কাব্যগ্রন্থটি হাতে পেলাম গত ১১ ফেব্রুয়ারি '১৮ তে। মাত্র ১১ টি কবিতা আছে ,তার মধ্যে " গুজবে কান দেবেন" শিরোনামের দীর্ঘ কবিতায় আছে চারটি স্তর। স্তরগুলি কবিতা থেকে খুলে আলাদা করে নিলে অনায়সে সেগুলি একেকটি স্বতন্ত্র কবিতা হতে পারে। সাম্প্রতিক কালের কবিতা বুঝতে, জানতে হলে কবি সুজিত দাসের কবিতা পড়তেই হবে এমন কোনো দিব্যি দেওয়ার ক্ষমতাধর আমি নই পাঠক। আমার নিজস্ব পঠনের কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি মাত্র।শক্তিমান এই ক্ষীণতনু কবিতার বইটি যদি আমার হাতে না আসতো তবে জানতে পারতাম না অনেক কিছুই। কাব্যভাষা, চিত্রকল্প ও মায়াজগৎ নির্মাণে কবি যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তার সন্ধান একদিন প্রকৃত পাঠকেরা ঠিক খুঁজে পান। কবির ভরসা ও শ্রদ্ধা আছে কবিতার পাঠকদের ওপর। তাই তিনি কবিতার সেই ভাষা চয়ন করেছেন যে ভাষার সঙ্গে পাঠক সহজেই নিজেকে খুৃঁজে পাবেন, বুঝতে পারবেন। পাঠকের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা যেমন আছে তেমনি লক্ষ্য করেছি তাঁর কবিতার প্রতি দায়বদ্ধতা। কোথাও অন্ত্যমিল নেই তবুও তাল, ছন্দ ও সুরের অনুরণন বাজে,বাজে কবিতা পাঠকের মননে।
বলা হয়, আজকাল আর কেউ কবিতা পড়েন না।আধুনিকতার নামে কবিতাকে ধর্ষণ করে চলেছেন কিছু মানুষ।সেসব কবিতা পাঠককে যে কষ্ট,লাঞ্ছনা দিয়েছে কেউ তার হিসেব রাখেন নি। কবি সুজিত দাস বইটির প্রথম কবিতা"অন্তর্জলি যাত্রা "য় যেন সে কথাই বলতে চেয়েছেন। তাঁর কবিতার কিংবা কাব্যগ্রন্থের প্রথম লাইনটি পড়ি -
"লেখা ক্রমে আসিতেছে।/
আমরা, প্রাকৃতজনেরা দূর থেকে বুঝি এই হিম নীলাভ।/
ফুরিয়ে যাওয়ার আগে একজন কবিও টের পান সেই কথা।/" যেন তিনি জীবনানন্দ থেকে শুরু করেছেন বলে মনে হলেও এই কবিতায় যে তীব্র শ্লেষ তিনি নিংড়ে দিয়েছেন, নিজেদের " দ্বাদশ ব্যক্তি " হিসেবে ধরে। বারবার পড়িয়ে নেন তিনি পাঠককে তাঁর কবিতা। শেষে একটি বাক্যকে বন্ধনীতে রেখে দুটি শব্দ বাদ দিয়ে পুরো কবিতাটি যে " কাঁচা ঢপ " বলে লিখে রেখে দিয়েছেন, পাঠক আবার সারেগামা থেকে শুরু করেন, অন্তরে আপনমনে যখন তিনি কবিতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠেন, তখনই কবির কবিতা সার্থক হয়ে ওঠে।ঠিক আমার যেমন মনে হলো, তাই তো এ কবিতা আমি কেন লিখলাম না!এ তো আমার কথা, আমাদের কথা,তাহাদের কথা।এখন যাঁরা সিরিয়াসলি কবিতার চর্চা করছেন তাঁদের একান্ত গোপন কথাকে তিনি কী অনায়সে প্রকাশ করেছেন ভেবে বিস্ময় জাগে।
তাঁর দ্বিতীয় কবিতা " অনুরোধের আসর "। পাঠক আসুন পড়ে নিই এই কবিতার প্রথম দুটি লাইন--

"ঈশ্বর যেদিন চার বার তথাস্তু বললেন
সেই বিশেষ দিনে আমিও চার বার ক্যাচ ফেললাম।"


পাঠক আপনি যদি কবি হোন বা না হোন, কবিতা লেখেন বা পড়েন,বাংলা কবিতা বাজারের হালহকিকতের খোঁজখবর রাখেন, তবে আপনার কপালে কোনো পুরস্কার ঈশ্বরের খিড়কি দরজা থেকে না পড়লেও, আপনি আবার নিজেকে খুঁজে পাবেন এই কবিতায়।
তৃতীয় কবিতা, "বিবি রাসেলের গামছা "তে কবি লেখেন, " এইভাবে হাফ সেলিব্রেটি থেকে পেজ থ্রি হতে হতে/ আমাদের পরনে প্রায় কিছুই থাকল না আর।...." কী স্পষ্ট উচ্চারণ তাঁর! সমগ্র কবিতাটি পড়ার পর "স্পনসর্ড মিছিল "এ যোগ দিতে হলে ঐ 'ব্র্যান্ডেড গামছা' মনে পড়তে বাধ্য।

কবির চতুর্থ কবিতায় আবারও ফিরে এসেছেন সেই ঈশ্বর। কবিতার শিরোনাম " ঈশ্বরকে নিয়ে একটি চারকোল ড্রয়িং "। ঈশ্বরের "সুলভ শৌচালয়ে চারকোল ড্রয়িং দেখা হল না বলে/ বিজনেস ক্লাসে তিন বার খাজুরাহো গিয়েও হাল ছেড়ে দেন উনি। "
এই কবিতাতেই সাহসালি উচ্চারণ, " হুক খোলার মতো একটি জটিল দায়িত্ব নিতে হবে বলে,/ মান্যবরেষু ঈশ্বর কিন্তু কালো ব্রার রহস্যটিও জানতে পারলেন না।" পাঠক পড়ুন, সুযোগ হলে পড়বেন প্লিজ। কেন ঝাল খাবেন অন্যের মুখে? জানি,জানি বলবেন খাওয়াচ্ছেন তো,তাই খাচ্ছি। আমি নিজেই ফিদা হয়ে গেছি, একথা কবুল করতে কোনও কবুলিয়তনামা লিখতে বসিনি আমি।

কাব্যগ্রন্থটির নামেই যে দীর্ঘ কবিতাটির কথা প্রথমেই উল্লেখ করেছি, সেই কবিতাটির নির্মাণশৈলী পাঠককে টেনে নিয়ে যায় এক 'না' বিহীন দুনিয়ার ভুলভুলাইয়াতে।
শুরু এভাবে -
১.
( ছোট হরফে) গুজব অতি বিষম বস্তু
(তারপর স্পেস। যেন কোনও এক শূন্যতা। যেন কোনও অনন্ত অবকাশ আর কবি ঠিক তার পরের লাইনটি লিখেছেন)
"ছাদে দুপুর শুকুতে দিয়ে আপনারা বসে আছেন।"
--- কবিতাটি তিনি সমাপ্ত করেছেন কেমন করে পাঠক লক্ষ্য করুন,
" ছেড়ে দিলে এমন সোনার গুজব আর পাবেন না।সুতরাং গুজবে কান দিন।" যেন এক প্রাগৈতিহাসিক মিথ্যাকে তিনি সত্যে রূপান্তরিত করার গবেষণায় রত ছিলেন। তাই 'সোনার গোউর'কে তিনি সোনার গুজবে পরিনত করে স্বস্তির শ্বাস নিয়েছেন, দিয়েছেন। দ্বিতীয় অংশের শেষে তিনি লিখেছেন, নয়পৃষ্ঠার একেবারে শেষ লাইনটি শুধু রাখলাম। পাঠক পড়ুন, "গুজবে কান দিন।এসব জাদুগুজব, মায়াগুজবকে হৃদমাঝারে রাখুন। " তৃতীয় অংশের শেষ অনুচ্ছদের শুধু প্রথম লাইনটি পড়ুন।কবি লিখেছেন, " প্রথম সারিতে লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবি,তিন নম্বর রোয়ে বুড়ো শালিক।ঘাড়ে আকাদেমি ঘুঘু।"
চতুর্থ অংশের সূচনায় ছোট হরফে লেখা লাইনটি পড়ে বসে থাকতে হয় বেশ খানিকক্ষন। উফ! সহজ সরল ভাষায় এক চাবুক এসে পড়ে সপাৎ শব্দে। লিখেছেন, " খেলা নিলে ভালো, না নিলেও। শুধু গুজবে কান দিয়ে যেতে হবে মিত্রোঁ "। তাঁর এই কবিতায় উঠে এসেছে একটা গোটা ভারত। যেখানে কবির ঘৃণা বর্ষিত হয়েছে রূঢ়ভাবে। হ্যাঁ,ভেতরের রাগ তো সকলের এভাবেই প্রকাশিত হয়। " মনে মনে চুদিরভাই বলেছিলে তুমি।" ঠিক, ঐ শব্দটি না বললেও আমরা আম আদমি মনে মনে আরও কত কত গালগালি দিই কে তার হিসেব রাখে!

পরের কবিতাগুলির শিরোনাম, নির্বাচিত প্রেমের কবিতা/অরুণ মিত্র আর আসেন না/ মনে আছে,কলকাতা ( কোলকাতা নয়, কলকাতা), কর্ড অফ ইভিল / বেনে বউ,পাগল এবং মাংসশিকার, অজ্ঞাতবাস - কবিতাগুলিতেও একই ভাবে তিনি খেলেছেন শব্দ নিয়ে,অক্ষর নিয়ে। সে খেলা তাঁর আন্তরিক,একদম দিলসে লেখা। ঐ কবিতাগুলির কয়েকটি লাইন তুলে নিই পাঠক। মায়ের কাছে শেখা ও দ্যাখা সেই ভাতের হাঁড়ি থেকে মা খুন্তি দিয়ে তুলে নিচ্ছেন দুচারটি ভাত। ভাতের হাঁড়ির গরম ভাপ এসে লাগছে মায়ের চোখে- মুখে,আর তিনি ভাতের পেট টিপে টিপে দেখছেন কতটা সেদ্ধ হল। কবির কাব্যগ্রন্থ যদি সেই ভাতের হাঁড়িটি হত, তবে তো আর তাঁর কাব্যগ্রন্থটি পড়ার আপনাদের কোনো দরকারই থাকতো না। আমি শুধু ভালো লাগা একটি দুটি লাইন না তুলে পারলাম না। পাঠক,একজন কবির,লেখকের ঈশ্বর আপনারাই।আপনাদের হেফাজতে কিছু পঙক্তি রেখে যেতে চাই। সেগুলি
" যাদের মুখোশ পরে তোমার এই অষ্টপ্রহর ছৌ- নাচ/ এবং যারা তোমার বিবাহবহির্ভূত কবিতাসমগ্রের পেছন পেছন/ তাড়া করে বেড়ানো রাতজাগা প্যাঁচার দল।" ( নির্বাচিত প্রেমের কবিতা পৃ-১১)
ছক্কা পাঞ্জা করার আগে দু- বার ভাবুক,/ নইলে এমন সব বিজ্ঞাপন সেঁটে দেব শহরের বাতিস্তম্ভে,/ বউ-বাচ্চা নিয়ে কেউ রাস্তায় বেরুতে পারবে না।(মনে আছে,কলকাতা)

বিস্মৃতি হল এক দ্রাবিড় যুবতির আঁকা গুহাচিত্র।- এই কর্ড অফ ইভিল কবিতাতে মিশে গেছে নস্টালজিক স্মৃতি,এই সময়,এই ভোগবাদী, সুবিধেবাদী সময়ের কথা। একজন ভালো মানুষের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়েও তিনি বলতে পারেন ---
মূর্তিমান শয়তানের মতো আমিও এবার ট্রিল সোনাটা বাজাবে হুজুর। / চার্চে নয়,সামনের ফুটপাথে বসেই।
পাঠক,প্রিয় পাঠক, অনেক কথা হয়ে গেল। তবুও অতৃপ্তি থেকে গেল। আমার পড়া, আপনার তা ভালো না লাগতেও পারে। প্লিজ,লাগাবেন না ভালো। তবে হাইপোথিসিসে লিখে রাখি, বাংলা কবিতা তার পাঠক ফিরে পেতে পারে বর্তমান যে কয়েকজনের কাছ থেকে, তার একজন হতে পারেন কবি সুজিত দাস। টাচ উড। টাচ উড।ভালোবাসার বিকল্প ও পরিবর্তনযোগ্য শব্দসন্ধানে রইলাম। কবিকে পেলে জানাতে ভুলবো না।আপাতত, ভালোবাসা,হ্যাঁ, ভালোবাসা লিখি আগামী প্রত্যাশায়। বুলেট চড়া হয় নি কোনোদিন তার আক্ষেপে ক্ষেপে গেছে কতজন কোনও পরিসংখ্যান নেই তার। আমি শুধু প্রথম পৃষ্ঠায় আটকে। একটি গোটা সাদা পাতায় চারটে মাত্র শব্দ ছুটে বেড়াচ্ছে শনশন করে।তারা মগজের মধ্যে বিকট শব্দ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ কী আশ্চর্যকথা, সে শব্দ আর কেউ শুনতে পাচ্ছেন না। দূরন্তগতিতে,আওয়াজে,ছুটে চলেছে মগজে মগজে

"রয়্যাল এনফিল্ড।
সাইলেন্সার নেই।''

Leave a reply

Comments

  • BISWAJIT ANKURE
    Sat, Feb 17, 2018
    কাব্যগ্রন্থটি পড়েছি। অসাধারণ লেখনশৈলী। অকপট সুজিত দাস।বাংলা কবিতায় তাঁর কাব্যভাষা নতুন এক দিশা পথনির্দেশ করবে আমার বিশ্বাস। ভজন দত্তের পাঠ অনুভূতি ভাল লাগল।কবিকে চরম শ্রদ্ধা। বাংলা কবিতায় চর্চা যাঁরা রয়েছেন তাঁদের অবশ্যই পড়া উচিৎ।